জেলা প্রতিনিধি, যশোর: যশোরের বেনাপোলে সোহাগ হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি যশোরের বেনাপোলের নারায়ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গত ২৯ মার্চ ভুক্তভোগী সোহাগ হোসেন বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে যশোরের আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- বেনাপোল পোর্ট থানার বোয়ালিয়া গ্রামের আসাদুলের ছেলে উজ্জল, মধুর ছেলে হাসান, গিয়াস উদ্দিনের ছেলে শাহ আলম, দাদন মিয়ার ছেলে মো. রাসেল, মোকলেছের ছেলে মনির, আব্দুল গফুরের ছেলে মনির, মোহাম্মাদ সরদারের ছেলে দাদন মিয়া।
আদালত বাদীর আবেদন আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য যশোর সিআইডি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আরিফুল ইসলাম শান্তি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে নারায়ণপুর গ্রামে অবস্থিত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘তামান্না ইলেকট্রিক’-এ আসামীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবেশ করে। প্রধান আসামি উজ্জল তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আসামিরা তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে এবং দোকান ও মোটরসাইকেল ভাংচুর করে।
এ সময় দোকানের ক্যাশ থেকে নগদ ৬৫ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রিক মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ঘটনা ধামাচাপা দিতে দোকানের ৬টি সিসি ক্যামেরা ভেঙে হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যায় তারা। পরে গ্রামবাসী এগিয়ে আসলে আসামিরা ৭ দিনের মধ্যে আরও ৭ লাখ টাকা না দিলে তাকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।
আহত সোহাগ শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও আসামিদের হুমকির মুখে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আসামিরা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সহায়তা না পেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি মামলার প্রধান সাক্ষী সজিবকে অপহরণ করে মারধর এবং সোহাগ ও তার ভাইকে পুলিশের সোর্স সাজিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সোহাগ হোসেন বর্তমানে ন্যায়বিচার ও নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।