জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ: হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ওড়াকান্দিতে শুরু হচ্ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী বারুণী মেলা।
কাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হচ্ছে স্নানোৎসব। যা মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ৮.৩৭ টায় পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
স্নানোৎসবে যোগ দিতে ইতোমধ্যে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে হাজার হাজার মতুয়া ভক্ত শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে ছুটে এসেছেন। উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও আয়োজক কমিটি।
স্নানোৎসব ও বারুণী মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঠাকুর বাড়ি এলাকায় বসানো হয়েছে সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ চৌকি ও সিসি ক্যামেরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল ও মতুয়া সংঘের দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথি উপলক্ষে প্রতি বছর ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়িতে মহাসমারোহে এ উৎসব পালিত হয়। এবার হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৫ তম অবির্ভাবোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ ছাড়াও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ এবং নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক লাখ মতুয়া ভক্তের আগমন ঘটবে ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়িতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্নানোৎসবে যোগ দিতে হাজার হাজার মতুয়া ভক্ত ও অনুসারীরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে ঠাকুর বাড়িতে সমবেত হয়েছেন। কেউ কেউ ঠাকুর বাড়িতে বিছানা পেতে স্নানের অপেক্ষায় রয়েছেন। কেউ দোকানপাট পেতে বসেছেন।
স্নান উৎসবকে ঘিরে ঠাকুর বাড়ির পাশ ঘেঁষে বসেছে তিন দিনব্যাপী বিশাল বারুণী মেলা। মেলায় কাঠ, বাঁশ ও বেতের তৈরি নান্দনিক আসবাবপত্রসহ লোকজ ঐতিহ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন শত শত ব্যবসায়ীরা। গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্মারক মাটির তৈরি জিনিসপত্র, খেলনা সামগ্রী এবং তালের পাখা মেলার অন্যতম আকর্ষণ।
স্নানোৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রস্তুতি।
আয়োজক কমিটির সভাপতি অমিতাভ ঠাকুর বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে উৎসব সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভক্তদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, অস্থায়ী শৌচাগার ও চিকিৎসা সেবার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মতুয়া ভক্তদের বরণ করে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ওড়াকান্দি।’
গোপালগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্নানোৎসবে আগত পূণ্যার্থীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রয়েছে।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, ‘ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি স্নানোৎসব ও বারুণীমেলা সফল করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারি থাকবে।’