,

গোপালগঞ্জ-১ আসন: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন শিমুল, পাল্টাবে ভোটের সমীকরণ!

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী একাংশ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুল তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

তাঁর এ প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় এ গুরুত্বপূর্ণ আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও বিশ্লেষকরা।

আজ সোমবার (১২ জানুয়ারী) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে তৃতীয় দিনের আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।

প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশরাফুল আলম শিমুলের ছোট ভাই ব্যারিস্টার নাজমুল আলম।

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আরিফ-উজ-জামান প্রার্থীর ওয়ান পার্সেন্ট ভোটারের স্বাক্ষর জটিলতার কারণে শিমুলের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।

শিমুল এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করেন। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তাঁর আপিল গ্রহণ করে এবং প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করে আদেশ দেয়।

গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও গোপালগঞ্জ ১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুলকে শাহবাগ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে রিয়াজ মোর্শেদ অপু হত্যা মামলায় তাকে ওই দিন গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, জুলাই আন্দোলনের শেষ দিন ৫আগস্ট যাত্রাবাড়ীর মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান অপু। ওই ঘটনায় তার খালা রুমা বেগম গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। গত ২২ অক্টোবর এ মামলা থেকে ১৬ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর।

উল্লেখ্য, উল্লেখ্য, আশরাফুল আলম শিমুল ২০০৯ সালে উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান, ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ২০২২ সালে মুকসুদপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এ পর্যন্ত তিনি যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, কোন নির্বাচনেই তিনি পরাজিত হননি। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যদিয়েও তিনি প্রতিটি নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

শিমুলের পারিবারিক পরিচিতি ও তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। তাঁর পিতা খায়রুল বাকী মিয়াও এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পিতার উত্তরসূরি হিসেবে শিমুলও বর্তমানে এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়।

এই বিভাগের আরও খবর