জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সরকারি খাস পুকুরপাড়ে লাগানো ১১টি মূল্যবান গাছ অনুমতি ছাড়াই বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের তারাইল বড় মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত সোহেল মোল্যা একই গ্রামের মৃত জিন্নাত আলী মোল্যার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারাইল বড় মাঠের পাশে অবস্থিত সরকারি খাস পুকুরপাড়ে দেবদারু, উড়িআম, কড়াই ও লাটিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১১টি গাছ ছিল। সরকারি অনুমতি ছাড়াই এসব গাছ একই গ্রামের রিপন শেখের কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন সোহেল মোল্যা। বুধবার সকালে রিপন শেখ শ্রমিক নিয়ে গাছগুলো কাটতে গেলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। এ সময় স্থানীয়রা গাছ কাটায় বাধা দেন এবং উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয় তহশীলদার ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা গাছগুলো উদ্ধার করেন।
অভিযুক্ত সোহেল মোল্যার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি গাছ বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি পুকুরটি লিজ নিয়েছি। সরকারিভাবে নতুন করে গাছ লাগানো হবে বলে পুকুরপাড়ের আগাছা পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে। কিন্তু সে বড় গাছ কেটে ফেলেছে।’
গাছের ক্রেতা রিপন শেখ বলেন, ‘আমি সোহেল মোল্যার কাছ থেকে ১১টি গাছ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি। শ্রমিক নিয়ে গাছ কাটতে এসেছি। ৭টি কাটার পর তহশীলদার এসে বাধা দিয়েছেন।’
স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘অনুমতি ছাড়া কারও গাছ কাটার এখতিয়ার নেই। আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৭টি কাটা গাছ উদ্ধার করেছি। বাকি চারটি গাছ এখনও কাটা হয়নি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।’
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমাকে জানিয়েছেন। কাটা গাছগুলো ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে জব্দ করতে বলা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’