,

কালিয়ায় এনজিওর কিস্তি নিয়ে দিশেহারা সাধারন মানুষ

ছবি-সংগৃহীত

মো: হাচিবুর রহমান, কালিয়া(নড়াইল) প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাস আতঙ্কে মানুষ গৃহবন্দী হয়ে পড়ছে। হাট-বাজারে কমে গেছে মানুষের উপস্থিতি। আতঙ্ক আর ক্রেতার অভাবে দোকানপাট-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় ক্রমেই দিনমজুর, শ্রমজীবি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে বাড়ছে হতাশা। এরপরও আবার কিস্তির জন্য তাড়া করছেন এনজিও কর্মীরা।

একদিকে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক, আর অন্যদিকে এনজিওর ঋণের কিস্তির টাকার বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ।

করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা কেটে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা হোক এমনটাই দাবি ঋণগ্রহীতাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কালিয়া উপজেলায় ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, বুরো, জাগরণী,পল্লী প্রগতি সহায়ক সমিতি,শাপলা সমিতি, গণ উন্নয়ন প্রচেষ্টা সহ বেশ কয়েকটি এনজিও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। করোনা ভাইরাস উপেক্ষা করে কাকডাকা ভোরেই এসব এনজিওর কয়েক শ’ কর্মী বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য বেড়িয়ে পড়ছেন। এতে এনজিওকর্মী ও ঋণগ্রহীতা উভয়ের জন্য করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ দুঃসময়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুরী পরিবারগুলোর উপর এনজিও’র কিস্তির টাকা যেন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিস্তির টাকা নিয়ে ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে এনজিও কর্মীদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ঝগড়া-বিবাদের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাত-পা ধরেও রেহাই পাচ্ছে ঋণগ্রহীতারা।

কিস্তির টাকার জন্য এনজিওর কর্মীরা গরু-ছাগল নিয়ে যাওয়ার এবং ভবিষ্যতে ঋণ দেওয়া হবে না এমন ভয়ভীতি দেখিয়ে কিস্তির টাকা আদায় করছেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এ দুঃসময়ে কর্মহীন মানুষ কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেকে স্থানীয় সুদে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ করছেন। আবার অনেকে এনজিও কর্মীদের ভয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

সরেজমিন বিভিন্ন উপজেলার এলাকা ঘুরে ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। নড়াগাতি বাজারের চা বিক্রেতা তাপশ বিশ্বাস বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে বাজারে লোকজনের উপস্থিতি একেবারেই কম। কেনাবেচা একেবারেই নেই। সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছি। অথচ এনজিও’র লোকজন এসে কিস্তির টাকা জন্য চাপ দিচ্ছেন।’

চর ডুমুরিয়া গ্রামের শিখা বেগম জানান, ‘তার স্বামী ভ্যান চালক। করোনা ভাইরাসের কারণে রাস্তায় আগের মতো যাত্রি পাওয়া যায় না। এতে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোগার করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও এনজিও’র সাপ্তাহিক কিস্তির ৯শ’ টাকা অন্যের কাছ থেকে ধার করে তিনি কিস্তি পরিশোধ করেছেন।

পহরডাঙ্গা গ্রামের জোছনা বেগম বলেন, ‘রাত পোহালেই কিস্তির জন্য এনজিও কর্মীরা বাড়িতে চলে আসেন। যতক্ষণ টাকা পরিশোধ না করা হয় ততোক্ষণ এনজিও কর্মীরা বাড়ী থেকে যেতে চান না।’

পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ হিরু মোল্যা বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এনজিওর ঋণের টাকা পরিশোধে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাই এ দুর্যোগকালে এনজিও’র কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা উচিত মনে করি।’

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, এ ব্যাপারে কোন ধরণের নির্দেশনা পাইনি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে আজ কথা বলবো । পরবর্তিতে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এই বিভাগের আরও খবর