মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: সারা দেশের ন্যায় মাগুরার মহম্মদপুরেও ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধিতে প্রজনন মৌসুমে পূর্বে থেকেই জেলেদের সচেতন করা হয়েছে। তারপরও যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস বিভাগ।
এতে বেকার হয়ে পড়েছে নদী নির্ভর প্রায় ৫০০ জেলে। অভাব-অনটনের মধ্যে তাদের দিন কাটলেও সরকারি কোন সহায়তা পাচ্ছেন না তারা।
উপজেলা মৎস অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় নিবন্ধিত এক হাজার ৫৮৩জন জেলে রয়েছেন।
যার মধ্যে প্রায় ৫০০ জেলে মধুমতি নদী থেকে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে জেলেরা তাদের নৌকাগুলো নিরাপদে রেখে জাল বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
নৌকা ভাসাতে না পারায় নদী নির্ভর এসব জেলেরা বেকার হয়ে পড়েছেন। অলস সময় পার করছেন তারা। এসব পরিবারের দিন কাটছে অভাব-অনটনের মধ্যে। কেউ অর্ধাহারে কেউ অনাহারেও দিন কাটাচ্ছেন।
বিপ্লব মালো, বিপুল মালোসহ কয়েকজন জেলে জানান, মধুমতী নদী থেকে আমরা মাছ শিকার করে থাকি। ইলিশ সম্পদ বাড়াতে ইলিশ ধরায় যে নিষেধাজ্ঞা হয়েছে তা আমরা মানি। কিন্তু এ সময় আমাদের অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। ছেলে মেয়ে নিয়ে খবু অভাবে দিন পার করছি। সরকারিভাবে আমরা কোনো সহযোগিতাও পাচ্ছিনা।
লাকু মোল্লা নামে এক জেলে বলেন, আমরা সরকারি সহযোগিতা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম। তাতে কোনো কাজ হয়নি। সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পেলে আমাদের কষ্টটা একটু কমে যেত।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্র দাস বলেন, ৯ থেকে ৩১ অক্টোবর ২২দিন ইলিশ ধরার পাশাপাশি সংরক্ষণ, বিপণন, পরিবহন আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এ সময় সরকারিভাবে সিলেক্টেড কিছু জায়গায় সহায়তা দেয়া হয়। মহম্মদপুর উপজেলা ইলিশ জোনের মধ্যে না পড়ায় তারা সরকারিভাবে সহায়তা পাচ্ছেন না।