,

রাত পোহালেই শুরু দুর্গোৎসব, মন্ডপে মন্ডপে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি

বিডিনিউজ ১০ রিপোর্টমহালয়ার মাধ্যমে পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গেছে। আর মাত্র একদিন। আবার আনন্দে মেতে উঠতে সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ। ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে কাল থেকে শুরু হচ্ছে দেবী দুর্গার বোধন। রাজধানীসহ সারা দেশের মন্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্যমে দিয়ে জাগ্রত করা হবে মাতৃশক্তিকে। মহালয়ার দিনই হয়েছে দেবীর চক্ষুদান। শিল্পীর তুলির টানে জেগে উঠেছে প্রতিমার ত্রিনয়ন। এখন চলছে দেবীর সাজ পোশাক ঠিক করার কাজ। রঙ্গীন বেনারসী শাড়ি আর আলতা রাঙা পা সাজাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর কয়েকটি পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখা যায়, পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশের অলঙ্কার নির্ধারণ করছেন। কেউ কেউ ছুটছেন দর্জিপাড়ায়। মা দুর্গার লাল টুকটুকে বেনারসি শাড়ির জরির কাজ, গণেশের ধুতিতে নকশাদার পাড় বসানো আর মহিষাসুরের জমকালো পোশাক তৈরির কাজ। কেউবা ছুটছেন কামারপাড়ায়। দেবীর হাতের চক্র, গদা, তীর-ধনুক ও খড়গ-ত্রিশূল প্রতিমাকে নতুন রূপে সাজিয়ে তুলতে।

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, প্রতি বছরই মহা সাড়ম্বরে আমরা মায়ের পূজা করে থাকি। এই বছরও এর ব্যাতিক্রম নয়। রাজধানীর অন্যান্য পূজা মন্ডপের মতো এখানেও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠীর দিন মায়ের পূজা শুরু হবে। মহা অষ্টমীতে এখানে প্রতি বছরের মতো এই বছরও হবে পাঠাবলী। নবমীর দিন হবে মহাযজ্ঞ। দশমীর সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হবে মায়ের পূজা। তিনি জানান, পূজায় ভক্তদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে আমাদের দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। আশা করছি কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হবে মায়ের বন্দন।

একই দাবি করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্তও। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও থেকে বড় কোনো সহিংসতার ঘটনার খবর আমাদের কাছে আসেনি। তবে অন্যান্য বছরের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া, দিনাজপুর, সাতক্ষিরা, চাপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর এলাকায় ছোট খাটো কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার খবর আমাদের কাছে এসেছে। তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সব নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আশা করছি পূজার সময়টাও এরকম নির্বিঘেœই কাটবে।

এদিকে দুর্গোৎসবকে ঘিরে নানা আয়োজনে ব্যস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সব ধর্ম ও শ্রেণির বাঙালির মধ্যেও। পূজার আনন্দে মাতোয়ারা বাঙালি জাতি। রাজধানীর প্রায় সব কয়টি শপিং সেন্টার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কেনাকাটায় মুখর। বসুন্ধরা শপিং সিটির দেশি-দশ, আড়ং, একসটাসিতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। দেশীয় পোশাক আর ম্যাচিং গয়না কেনা-কাটায় ব্যস্ত সবাই। কেউ কেউ আবার মফস্বল থেকেও এসেছেন পূজার কেনাকাটা করতে। বসুন্ধর শপিং সেন্টারে ছেলে মেয়ের জন্য পূজার পোশাক কিনতে আসা লেখিকা রুমা মোদক বলেন, জীবিকার তাগিদে থাকি মফস্বলে। ওখানে চাইলে মনের মতো সব কিছু পাওয়া যায় না। তাই প্রতি বছরই পূজার কেনা-কাটা করতে রাজধানীতে আসি। এই বারও ব্যতিক্রম হয়নি। ছেলের কুর্তা-পায়জামা থেকে বরের পাঞ্জাবী সবই কেনা শেষ। এখন কিনছি প্রয়োজনীয় গয়নাগাটি।

মৌচাক মার্কেট, নিউ মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট সব জায়গাতেই ক্রেতাদের ভীড়। সাধ্যমত নিজেকে সাজাতে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ব্যস্ত সবাই। বিক্রি বাড়ায় হাসি বিক্রেতাদের মুখেও। মৌচাক মার্কেটের কসমেটিকস ব্যবসায়ী জাফর মিয়া বলেন, আমাদের বিক্রির মৌসুমই মূলত দুইটা। রোজার ঈদ আর দুর্গা পূজা। সারা বছরের পসরা নিয়ে আমরা তৈরি থাকি এ সময়গুলোতে। এ বছর আবহাওয়া এবং দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ভালো থাকায় বিক্রি বেড়েছে আশার চাইতে বেশি।

এই বিভাগের আরও খবর