,

হতদরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়াল টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রশাসন

জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ:  হোগলার বেড়ায় আঠা দিয়ে পত্রিকা লাগিয়ে ভাঙাচোরা ঘরেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে দুই বোন জুই মন্ডল ও শংকরী মন্ডলের সংসার। অন্যের জমিতে কাজ করে ও হাঁস পালন করেই চলছে তাদের সংসার। রোজগারের টাকায় বাবার ওষুধের টাকাই হয় না। টাকার অভাবে বিয়ের বয়েস চলে গেলেও বিয়ে করা হয়নি তাদের। খেয়ে না খেয়ে দিন চলে। এমন সময়েও এ ধরনের দরিদ্র লোক থাকতে পারে তা ভাবাই যায় না।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের লেবুতলা গ্রামের এই দুই বোন বিবাহযোগ্য হওয়ার পরও তারা বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে বাবার সেবা করে চলেছেন। ওরা কতদিন যে মাছ-মাংস খায়না তার কোন ঠিক নেই। প্রতিদিন সকালে ভাতে পানি দিয়ে আর কাঁচামরিচ দিয়ে ভাত খায়। আর রাতে চলে শাক-সবজি।

সাত মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার ছিল লেবুতলা এলাকার গৌরদাস মন্ডলের। পাঁচ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এখনও অবিবাহিত রয়েছে দুই মেয়ে। প্রায় ৮ বছর আগে ৭০ বছর বয়সী গৌর দাস মন্ডল পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে ঘরে পরে থাকেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় সব আয়ের পথ। একটি ঘর থাকলেও সেটি বসবাসের অযোগ্য।

দুই বোন অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করে ও হাঁস পালন করে জীবন চালাচ্ছেন। কিন্তু সেই উপার্জন দিয়ে বাবার ওষুধের টাকায় জোগাড়ই হয় না। কোন রকমে শাক-সবজি আর পান্তা ভাত খেয়েই দিন পার করেন তারা। নতুন জামা-কাপড় কবে পরেছেন এমনটিও তারা বলতে পারেন না।

ওরা কতদিন যে মাছ-মাংস খায়না তার কোন ঠিক নেই। প্রতিদিন সকালে ভাতে পানি দিয়ে আর কাঁচামরিচ দিয়ে ভাত খায়।আর রাতে চলে শাকসব্জি।

তাদের প্রতিবেশী বিথী ঘরামী বলেন, ‘দুই বোন জুই ও শংকরীর জীবনে পূজা-পার্বনসহ কোন আনন্দের দিন নেই। কারণ তারা কখনোই একটা নতুন জামা কিনতে পারে না। বাবার ঔষধ কিনতেই সব টাকা চলে যায়, তারপরও কোন রকমে দিন পার করেন তারা। তাদের দুঃখের কথা শুনে ইউএনও স্যার নিজে বাড়ি এসে সাহায্য করেছেন।’

আরেক প্রতিবেশী লক্ষী মন্ডল মন্ডল বলেন, ‘ভাঙা ঘরের সাথে তারা নিজেরা ঠিকমতো খেতেই পারে না। বিবাহযোগ্য হওয়ার পরও তারা বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে বাবার সেবা করে চলেছেন। ওরা কতদিন যে মাছ মাংস খায়না তার কোন ঠিক নেই। প্রতিদিন সকালে দেখি ভাতে পানি দিয়ে কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাত খায়। আর দুপুরে আর রাতেও হয় কাঁচা মরিচ ভাত অথবা শাকসবজি দিয়েই খেতে হয়। সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনে প্রশাসন তাদের সহায়তা করেছেন।’

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমরান শেখ বলেন, ‘আমরা কয়েকজন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে একটি ভাঙাচোরা ঘর দেখতে পাই। তখন প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তাদের কথা জানতে পারি। পরে ইউএনও স্যারকে জানালে তিনি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈনুল হক বলেন, ‘স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনে তাদের বাড়িতে যাই। তখন দেখতে পাই আসলেই তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরে ২০ হাজার টাকা, একটি সেলাই মেশিন, ৩০ কেজি চাল ও কয়েকটি কম্বল দিয়েছি। এছাড়া খুব শীঘ্রই প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের একটি ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন সবসময় হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে।’

এই বিভাগের আরও খবর