এম এ এরশাদ, ডুমুরিয়া (খুলনা): খুলনার ডুমুরিয়ায় চরচরিয়া-শিবনগর ভদ্রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজ শেষে হলেই ডুমুরিয়া, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলাবাসীর দুর্ভোগ কমে যাবে। সাশ্রয় হবে সময় ও শ্রম। তাই এই তিন উপজেলার হাজারো বাসিন্দা এখন সেতু নির্মাণ শেষ হওয়ার অপেক্ষায়।
বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চলতি বছর প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায়, ডুমুরিয়া উপজেলার বসুন্দিয়া বাজার-মাগুরখালী ইউপি অফিস (চরচরিয়া-শিবনগর) সড়কে ভদ্রা নদীর ওপর ৩১৫ দশমিক ৩০ মিটার লম্বা পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। ইতিমধ্যে সেতুর ৭টি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস জানান, ২০২০ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। সেতুটি চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষ সহজ পথে কপিলমুনি বাজার থেকে, ডানে ডুমুরিয়া উপজেলা মাগুরখালী হয়ে খুলনা শহরে যেতে ২৪ কিলোমিটার পথ সাশ্রয় হবে।
উপজেলার সাহস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রহমান বলেন, খেয়া পারাপারসহ মানুষের নানামুখী দুর্ভোগ লাঘবে, বিগত জাতীয় পার্টির সময় থেকে এলাকাবাসীর দাবি ছিল, উপজেলার চরচরিয়া-শিবনগন ভদ্রা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের।
খুলনা জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি ডুমুরিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য বিএম ইসমাইল হোসেন বলেন, খুলনা জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে ডুমুরিয়া শাকসবজি, তরিতরকারির জন্য বিখ্যাত। মাছের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সুন্দরবনঘেঁষা কয়রা-গাইকগাছা। চরচরিয়া-শিবনগর সেতুটির নির্মাণ শেষ হলেই সড়ক পথে যাতায়াত সুবিধার পাশাপাশি মৎস্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, চিকিৎসা, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আর্থসামাজিক অবস্থা পাল্টে যাবে এ এলাকার মানুষের।
ডুমুরিয়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক খান নুরুল ইসলাম বলেন, চরচরিয়া-শিবনগর খেয়া পারাপারে এ পর্যন্ত অনেক মানুষ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন চাকরিজীবী, চিকিৎসা, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যসহ বিভিন্ন মালপত্র পারাপারে দুর্ভোগের অন্ত ছিল না।
উপজেলার আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা প্রতাপ কুমার ঘোষ বলেন, ডুমুরিয়ার কৃতী সন্তান সদ্য অবসর নেওয়া পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব সরদার ইলিয়াজ হোসেনের প্রচেষ্টায় বর্তমান সরকারের সময় চরচরিয়া-শিবনগর এলাকায় ভদ্রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সবচেয়ে বড় দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম বলেন, সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলেই তিন ঘণ্টার পথ পেরোতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিট। তাছাড়া ডুমুরিয়া, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা থেকে খুলনা-ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত শত কোটি টাকার মাছ-সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য অল্প সময়ে পরিবহন করা সম্ভব হবে। ফলে বদলে যাবে পুরো এলাকার অর্থনীতিও।