,

কাশিয়ানীতে সুপেয় পানি সরবরাহের নামে অর্থ আত্মসাৎ

জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ:  গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, পানি সরবরাহের নামে অর্থ আত্মসাৎ ও চাকরির প্রলোভর দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পানি সরবরাহ শুরু হওয়ার আগেই ম্যানেজার মিন্টু শেখের এ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে পুরো প্রকল্পটি এখন ভেস্তে যেতে বসেছে। চরম বিপাকে পড়েছেন প্রায় ৫ শতাধিক গ্রাহক। তারা দ্রুত এ অনিয়মের প্রতিকার এবং সুপেয় পানি সরবরাহের নিশ্চয়তা দাবি করেছেন।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার পুইশুর ইউনিয়নের সীতারামপুর গ্রামে ‘পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রামবাসীর দোরগোড়ায় সুপেয় পানি পৌঁছে দিতে পানির ট্যাংকি ও পানি সরবরাহ লাইন নির্মাণ করা হয়। জমিদাতা হিসেবে প্রকল্পের ম্যানেজারের দায়িত্ব পান একই গ্রামের মিন্টু শেখ। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সংযোগ ফি ৫০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও তিনি অন্তত ২৫০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ১০০০ টাকা করে আদায় করেছেন। এছাড়া পাইপলাইন টানা বাবদ শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ১৫শ’ থেকে ৬ হাজার করে টাকা আদায় করেছেন। এসব টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তিনি নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া প্রকল্পের বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লোকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সীতারামপুর গ্রামের ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সরকার আমাদের সুবিধার জন্য এ প্রকল্প করেছে। কিন্তু ম্যানেজার মিন্টু শেখ পানির লাইনের জন্য নিয়মবহির্ভূতভাবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দ্বিগুণ টাকা নিয়েছেন। আমার স্ত্রীর কাছ থেকে ৫০০ টাকার জায়গায় ১০০০ টাকা নিয়েছেন।’

একই গ্রামের আনিচুর রহমান মোল্যা জানান- পানি সরবরাহ প্রকল্পে অফিস স্টাফ পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়েছেন ম্যানেজার মিন্টু শেখ।

অপর চাকরিপ্রার্থী একই গ্রামের রাজু শিকদারকে লাইনম্যান পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার চুক্তি করেন এবং ২০ হাজার টাকা অগ্রিম ঘুষ নিয়েছেন মিন্টু। এভাবে চাকরি দেওয়ার নামে এলাকার অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এসব অনিয়মের বিষয় অভিযুক্ত মিন্টু শেখের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ওখানের কেউ না। প্রকল্পটি অফিস নিয়ন্ত্রণ করে। আমি শুধু জমি দিয়েছি। এসব বিষয় তারা ভালো বলতে পারবেন।’

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী এম এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে আমরা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। আমরা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই বিভাগের আরও খবর