জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছাড়া নেতাকর্মীরা। ফলে ঈদ নেই এসব পরিবারে। ব্যবহৃত মুঠোফোনও বন্ধ রেখেছেন তারা। আবার কেউ কেউ মোবাইল ফোন বাড়িতে রেখে অন্যত্র পালিয়ে রয়েছেন। একান্ত প্রয়োজনে তারা পরিবারের সঙ্গে অনলাইনের বিভিন্ন প্লাটফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন।
উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মীদের আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় দলের কোন কর্মসূচিই পালন করতে পারছেন না মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা।
আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এসব পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই দলের কর্মসূচির অংশ হিসাবে ইফতার মাহফিল, সভা সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল এবং সড়কে মোটরসাইকেল শোডাউন দিয়ে রাজপথ দখলে রেখেছেন।
উপজেলা আ. লীগ সূত্রে জানা যায়, ১৬ জানুয়ারি বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এম মোশাররফ হোসেনে মুসা মিয়া, আলফাডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সাইফার, উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম সুজা, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ দেলোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এনায়েত হোসেন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক, হাসমত হোসেন তালুকদার তপন, যুগ্ম আহবায়ক কামরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী কাওছার হোসেন টিটো ও দায়িত্বরত কয়েকজন সাংবাদিকসহ ১৭০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২৫০০-৩০০০ জনের নামে আলফাডাঙ্গা থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ও নাশকতা মামলা করেছে বিএনপি। এরপর থেকে পুলিশ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালাচ্ছে নিয়মিত।
অজ্ঞাত আসামি থাকায় গ্রেফতার আতঙ্কে ১০ হাজারের অধিক নেতাকর্মী বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে রয়েছেন। তবে পুলিশের দাবি, আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে হয়রানী করা হচ্ছে না। যাদের নামে মামলা রয়েছে তাদেরকেই গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাবি, আলফাডাঙ্গায় আওয়ামী লীগের কোনো ধরণের হরতাল বা অবরোধের পক্ষে কোনো মিছিল পর্যন্ত হয়নি, এমনকি কোনো ধরনের পিকেটিং বা ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেনি। অথচ বিএনপির মিথ্যা অভিযোগে একজন ভ্যানচালককে বাদী করে, পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করতে আলফাডাঙ্গা উপজেলায় শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে বোমা বিস্ফোরণসহ নাশকতা করা হয়েছে দেখিয়ে উপজেলার ১৭০ জন নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। বিএনপি, জামাত, মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে উস্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে, তবুও পুলিশ তাদের কিছুই বলছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে, উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগের ও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী বলেন, পুলিশ আওয়ামী লীগের কর্মীদের গ্রেফতার করছে। সে কারণে কোনো অন্যায় না করেও শুধু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। ঈদেও পরিবার পরিজন ছাড়া থাকতে হবে।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী কাওছার হোসেনের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তার পরিবারের একজন মহিলা কলটি রিসিভ করে বলেন, ‘ফোন বাড়িতে রেখে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বাড়িতে নেই। কোথায় আছেন তাও জানি না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাবি তাদেরকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ছাড়া আলফাডাঙ্গায় দায়িত্বরত কয়েকজন সাংবাদিকদের আসামী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় তারাও আত্মগোপনে রয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে না পারার কারণে কর্মক্ষেত্রসহ পারিবারিক নানা সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি হারুন অর রশিদ বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৩ই আগস্ট নাশকতা সৃষ্টি ও বিস্ফোরণের ঘটনায় লাবলু সরদার নামে একজন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা হয়েছে। তালিকাভূক্ত আসামিদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই, তাদেরকে হয়রানি করা হবে না।