,

ঝাঁজ কমেছে পেঁয়াজের

বিডিনিউজ ১০ ডটকম, রাজধানী: রাজধানীর বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ৫ টাকা। পেঁয়াজের পাশাপাশি কমেছে শীতের আগাম সবজি শিম, টমেটো, মুলা, ফুলকপি, পাতাকপির দাম। প্রায় সব ধরনের মাছের দামও সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে দেশি ও অমদানি করা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ার কারণে দাম কিছুটা কমেছে। আর শীতের আগাম সবজির দাম যেটুকু কমেছে সামনে আরও কমবে। কারণে বাজারে এসব সবজির সরবরাহ বাড়ছে। আমদানি করা টমেটোর পাশাপাশি দেশি টমেটোও বাজারে আসতে শুরু করেছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

রামপুরা, খিলগাঁও অঞ্চলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজিতে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ টাকা। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৩৫ টাকা।

রামপুরা, খিলগাঁওয়ের মতো শান্তিনগর বাজারেও পেঁয়াজের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ টাকা কমেছে। তবে এ বাজারটিতে পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক একটু বেশি। বাজারটির ব্যবসায়ীরা প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৪৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৩০-৩৫ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫-৪০ টাকা।

এদিকে দুই মাসের বেশি সময় ধরে বাজারে সব থেকে দামি সবজির তালিকায় সবার ওপরে শিম। তবে এর দাম এখন কেজিপ্রতি ১০০ টাকার নিচে নেমে এসেছে। পাশাপাশি টমেটো ও গাজরের কেজিও ১০০ টাকার নিচে নেমেছে।

বাজার ও মানভেদে শিম বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১২০-১৪০ টাকা কেজি। টমেটো ও গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা। গত সপ্তাহে এ সবজি দু’টির কেজিও ১০০ টাকার ওপরে ছিল।

শীতের অন্যতম আগাম সবজি ফুলকপি ও পাতাকপির দামও কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে ৬০-৭০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া ফুলকপির দাম কমে ৩০-৪০ টাকায় নেমে এসেছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে পাতাকপি।

বছরের প্রায় সময় ধরে বাজারে পাওয়া যাওয়া বেগুন, উস্তে, বরবটি, কাকরল, করলা, পটল, ঝিঙা, ধুন্দল, ধেড়স, লাউয়ের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারভেদে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৩০-৬০ টাকা কেজিতে। করলা ৩০-৫০ টাকা কেজি, বরবটি ৬০-৭০ টাকা কেজি। এ ছাড়া চিচিংগা, পটল, ঢেড়স, ঝিঙা, ধুনদল, কাকরল বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা কেজি।

দাম অপরিবর্তিত রয়েছে কাঁচামরিচ, বয়লার মুরগি এবং গরু ও খাসির মাংসের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা পোয়া (২৫০ গ্রাম)। আর বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৬৫০-৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের মাছের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে। রুই মাছ বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৪০০ টাকা কেজিতে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০০-৫০০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে ৫০০-৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাবদা মাছর দাম কিছুটা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়।

তবে অপরিবর্তিত রয়েছে শিং, তেলাপিয়া, সরপুটি, পাঙাস মাছের দাম। শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৫০০ টাকায়। ১২০-১৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে তেলাপিয়া ও পাঙাস। আর সরপুটি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকা কেজি।

ব্যবসায়ীরা কী বলছেন
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. খায়রুল বলেন, বাজারে এখন শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বেড়েছে। যে কারণে কপি, শিমের দাম কমেছে। সামনে এসব সবজির দাম আরও কমবে। এখন দেশি টমেটোও বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে দেশি টমেটোর দাম এখন চড়া। কিছুদিন পর টমেটোর দামও কমে যাবে।

এই বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. রুবেল মিয়া বলেন, বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। আবার পেঁয়াজের আমদানি খরচ কমেছে। এসব কারণেই পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে।

খিলগাঁও তালতলা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী বিমল বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই বাজারে ইলিশ মাছ আসবে। অনেক ব্যবসায়ী আগেই ইলিশ মাছ কিনে মজুদ করে রেখেছেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে প্রকাশ্যে কেউ ইলিশ বিক্রি করছে না। এসব ইলিশ আগামী সপ্তাহ থেকেই বাজারে বিক্রি হবে। এর সঙ্গে নতুন ধরা ইলিশও বাজারে আসবে। মাছের বাজারে এর একটি প্রভাব রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর