,

‘কী করবো রে মামু, সবই কপাল!’

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা: ‘কেলা রাখবেন কেলা চাম্পা কেলা, সমাই কেলা’ এভাবেই বলতে বলতে গ্রামের পথ হেটে কলা বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করেন ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মনু মিয়া। প্রতিদিন ভোর হতেই কলার ভার কাঁধে নিয়ে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৪০ বছর ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

কাজ করার শক্তি সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছে তারপরও কারও কাছে হাত পাতেন না। তাই জীবিকা নির্বাহের তাগিতে জীবনের অন্তিম মুহূর্তে এসেও এ গ্রাম ও গ্রামে গিয়ে কলা বিক্রি করেন। জীবনের রঙ্গিন স্বপ্নগুলো কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে অনেক আগেই। এখন আর বড় লোক হবার স্বপ্ন নেই, শুধু বেঁচে থাকাটাই এখন তার কাছে আনন্দের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার পূর্বধৈইর পূর্ব ইউনিয়নের হীরাপুর গ্রামের মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে এই মনু মিয়া। কিশোর বয়সে পিতা মারা যাওয়ার পরপর শুরু হয় মনু মিয়ার জীবন সংগ্রাম। ওই সময়েই ভাই বোন আর মায়ের ভরণ পোষণের দায়িত্বটা নিজ ঘাড়ে তুলে নিতে হয়। সেই দায়িত্বের বোঝাটা আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন। সংসার জীবনে ৬ সন্তানের জনক, কিন্তু অভাবের সাথে লড়াই করা এখনো শেষ হয়নি। কিশোর বয়স থেকে এখন পর্যন্ত হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে চলছেন। বড় ৪ ছেলে নিজেরা পরিবার নিয়ে ঢাকায় রিকশা চালায়। মেয়েরা বিয়ের পর নিজেদের সংসার নিয়েই ব্যস্ত। সবাই থেকেও যেনো কেউ নেই তার, তাই স্ত্রীকে নিয়েই তার মনু জীবন সংগ্রাম।

আক্ষেপ করে মনু মিয়া বলেন, কী করবো রে মামু, সবই কপাল!, ছেলেরা নিজেদের সংসারই চালাইতে পারেনা! কোম্পানীগঞ্জের পাইকারি আড়ৎ থেকে কলা নিয়ে হাটতে শুরু করি বিক্রি শেষে বাড়ি যাই। দিন শেষে যা পাই তা দিয়া জীবনটা চালাই। এক সময় অনেক কাজ করতাম। কিন্তু বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আজ কাজ করতে পারিনা। দেহ মন কোনটাই চলে না তবুও বসে থাকতে পারিনা। কে দিবে ঔষধের টাকা আর কে দিবে ভাত। তিনি আরও বলেন, কাপড় ছাড়াই চলছি সারা জীবন এই লুঙ্গি, আর ছেড়া গেঞ্জি পড়ে জীবনটা কাটাই দিলাম। ৭ বছর আগে একটা পাঞ্জাবি বানাইছি আজও ওটা পরতেছি!

ছেলেরা সচ্ছল হয়ে বাবার কষ্ট দূর করবে এইসব কল্পনাতেও ভাবতে পারেননা মনু মিয়া। তিনি জানেন না এই পরিশ্রমের শেষ কোথায়? কবে নামবে তার ঘাড়ের বোঝা। জীবনের এই অন্তিম মুহূর্তে সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিরা এগিয়ে আসলে হয়তো বাকি সময়টা স্বাচ্ছন্দ্যে কাটিয়ে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারবেন মনু মিয়া।

এই বিভাগের আরও খবর


AllEscort