,

ইসি গঠনে ১০ নাম চূড়ান্ত হতে পারে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন কমিশন গঠনে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করতে আজ শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সপ্তমবারের মতো বৈঠক বসতে যাচ্ছে অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি। সেখানে ১০ জনের নামের তালিকা চূড়ান্ত করা হতে পারে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এর আগে অনুষ্ঠিত সার্চ কমিটির ছয়টি বৈঠকের চারটি ছিল বিশিষ্টজনদের সঙ্গে। প্রথম ও ষষ্ঠ বৈঠকে কমিটির সদস্যরা নিজেরা উপস্থিত ছিলেন। আজকের বৈঠকেও শুধু কমিটির সদস্যরা থাকবেন। সকাল সাড়ে ১১টায় বৈঠকটি সুপ্রিমকোর্টের জাজেস লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ বৈঠকে সার্চ কমিটির আহ্বানে জমা পড়া তিন শতাধিক নাম থেকে প্রাথমিক বাছাইয়ে অর্ধেকের বেশি নাম অযোগ্য তালিকায় চলে গেছে। যোগ্যদের মধ্যেও দুটি সংক্ষিপ্ত তালিকা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত ও তুলনামূলক গ্রহণযোগ্যদের প্রথম তালিকায় রাখা হয়েছে। এদের সংখ্যা ৬০ জনের বেশি নয়। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত পরিচিতি কম যোগ্য ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে দ্বিতীয় তালিকায়। আজকের বৈঠকে প্রথম তালিকা থেকে ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি হতে পারে।

এদিকে সার্চ কমিটির কাছে জমা হওয়া নামগুলো প্রকাশ করার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন অনেকেই। তারা চূড়ান্তভাবে বাছাই করা ১০ জনের তালিকা প্রকাশেরও জোর দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু সার্চ কমিটির সদস্যরা এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তবে আইন অনুযায়ী এসব নাম প্রকাশে বাধা নেই বলে মনে করেন নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, আইনে সার্চ কমিটিকে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে বলা হয়েছে। তাই কমিটির উচিত হবে প্রথম তালিকার মতো শেষ তালিকাটিও প্রকাশ করা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রথম তালিকা প্রকাশ করে সার্চ কমিটি তাদের কাজের স্বচ্ছতার বিষয়টিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন চূড়ান্ত বাছাইকৃত নামগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে দেশবাসীকে জানানো উচিত। এতে সার্চ কমিটির কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি তাদের আন্তরিকতা সত্ত্বেও যদি কোনো কারণে বিতর্কিত কারও নাম তালিকায় ঢুকে পড়ে তাহলে দেশবাসী সার্চ কমিটিকে জানাতে পারবে। এদিকে বাছাইকৃত নাম প্রকাশ করা হবে কিনা-তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার মধ্যে রয়েছে সার্চ কমিটি।

এ বিষয়ে কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কেউ বলেছেন প্রকাশ করা উচিত হবে না, আবার কারও কারও মন্তব্য-সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে প্রকাশ করার বিষয়টি বিবেচনা করবে সার্চ কমিটি।

উল্লেখ্য, এ সংক্রান্ত আইনে বাছাই হওয়া নাম প্রকাশ বা গোপন রাখার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তাই এই বিষয়টি কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে প্রধান করে ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন।

সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করার বিধান আছে। নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রণীত নতুন আইন অনুযায়ী, সার্চ কমিটি প্রত্যেকটি শূন্যপদের বিপরীতে দুটি করে নাম প্রস্তাব করতে পারবে। সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ দশটি নাম প্রস্তাবের সুযোগ আছে সার্চ কমিটির।

এই বিভাগের আরও খবর


AllEscort